Profile photo for Dr. Rubel Malaysia
Dr. Rubel Malaysia

স্ত্রীর প্রাক্তনের সাথে জন্মদিন পালন

জানিনা কে কীভাবে নিবেন। আমার স্ত্রী রাজিয়া তার এক্সকে এখনও ভালবাসে। ছবিতে রাজিয়ার সাথেই দাড়ানো যাকে দেখা আচ্ছে, সেটা আমি, রিয়াজ। চশমা পড়া অন্য ছেলেটা, যার দিকে রাজিয়া অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, আমার স্ত্রীর প্রাক্তন- শামিম। শামিম ফ্রিজের দোকানে কাজ করে, আর আমি এক প্রাইভেট ব্যাংকের এভিপি।

জানি এটা স্বাভাবিক না। কিন্তু আমার কাছে আমার স্ত্রীর সুখ সবার আগে। সে আমাকে কোন কিছু দিয়ে কমতি রাখেনি, বাসার রান্না-বান্না, বাবা-মার যত্ন নেওয়া, আমাকে ভালবাসা, সবকিছুতে পার্ফেক্ট আমার বউ। কিন্তু তার একটাই দুঃখ, তার বাবা-মা তার পুরনো ভালবাসা মেনে নেয়নি। এটাই স্বাভাবিক, দুনিয়ার কোন বাবা-মা তাদের সুন্দরী মেয়ের জন্য ফ্রিজের মেকানিককে জামাই হিসাবে মেনে নিবে? রাজিয়ার বেলাতেও মেনে নেয়নি। তাকে মোটামুতি জোর করেই আমার সাথে বিয়ে দেয়। কিন্তু আমি জানি আমার বউ আমার সাথে সুখি নয়, সুখের ভান করে থাকে। তাকে না জানিয়েই তার এক্স শামিমকে আমি তার জন্মদিনে দাওয়াত দেই, রাজিয়াকে সারপ্রাইজ দেই। সেদিনের মত খুশি রাজিয়াকে আর কোনদিন হতে দেখিনি।

এরপর থেকে প্রায়ই আমাদের বাসায় শামিম যাতায়াত করা শুরু করে। আমি সবই জানি, কিন্তু রাজিয়ার সুখের জন্য সব মেনে নেই। সবথেকে ঝামেলা হয় যখন ওদের ঝগড়া হয়, রাজিয়া যেন আমার সামনে শামিমের নামে অভিযোগের ডালা খুলে বসে। আমারই তখন বেচারা শামিমের পক্ষ নিয়ে তাদের রাগ ভাঙাতে হয়। খুব খারাপ লাগে মাঝে মাঝে। আমি চেয়েছিলাম রাজিয়া একসময় আমাকে ভালবাসতে শুরু করবে, বুঝতে শুরু করবে তার প্রেমে তারই স্বামী কীভাবে পাগল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দিন দিন যেন আমি তাকে হারিয়ে ফেলছি। আমার প্রতি তার অবহেলা যেন দিন দিন আরও তীক্ষ্ণ হয়ে আমাকে বিদ্ধ করছে। রাজিয়া আমাকে দেখলে এখন বিনাকারণে বিরক্ত হয়।

আমি রাজিয়াকে আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি। স্ত্রীকে ভালবেসে এত কষ্ট আমার আগে আর কোন স্বামী পেয়েছে?

(রিয়াজ আমার প্যাশেন্ট। রিয়াজের অনুমতি নিয়েই তাদের ছবি আমার পেজে শেয়ার করলাম।)